মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-এর দরবারে অগণত শুকর ও সুজুদ! যিনি জ্ঞানের দরজাকে আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ) নামে সম্বোধন করেছেন। তবে প্রত্যেক জ্ঞানার্জীকে একথা মনে রাখতে হবে—
“সুবহানাকা লা ইলমা লানা ইল্লা মা আল্লামতানা”
(হে আমাদের রব! আপনার পবিত্রতা! আমাদেরকে সেই জ্ঞান নেই, যা আপনি আমাদের দিয়েছেন।)
আরবি ভাষা মহান রবের এক অমূল্য নেয়ামত। তিনি এ ভাষাকে করেছেন অসাধারণ সমৃদ্ধ, সুন্দর ও সুবিন্যস্ত। অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক ও আলেম এই ভাষায় কবিতা ও সাহিত্য রচনা করেছেন। আর মহান আল্লাহর কালাম কুরআনুল কারীম এই আরবি ভাষা ও তার ব্যাকরণকে চিরকালের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আরবি ব্যাকরণের একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে ছরফ (السَّرْف)। এটি আরবি ভাষার মূল চালিকা শক্তি। কেননা—
🔹 নাহু (النَّحْو) বাক্য বা বাক্যাংশ গঠনে সহায়তা করে,
🔹 আর ছরফ শব্দের গঠন, রূপান্তর ও সঠিক ব্যবহার শেখায়।
ছরফ ছাড়া আরবি ভাষা শেখা অসম্ভব! কারণ প্রতিটি শব্দের মূল গঠন, তার রূপ পরিবর্তন ও বাক্যে সঠিক অবস্থান বোঝার জন্য ছরফের জ্ঞান অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়েছে —
(التَّسْهِيل فِي صِياغَةِ التَّأْلِيل)
এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ ধরনের কিতাব, যা গাইরে ছহীহ্ (غير الصحيح) — অর্থাৎ প্রচলিত ব্যাকরণীয় নিয়ম (ছহীহ্ সিহাহ্)-এর বাইরে পড়া এমন শব্দের রূপান্তর ও ব্যবহারের নিয়ম নিয়েই আলোচনা করেছে! এগুলোকে বলা হয় তা’লীলের ছীগাহ্ (شيغات التأويل)। সহজ কথায়—যেসব শব্দ সাধারণ নিয়মে বিভক্ত বা রূপান্তর করা যায় না, তাদের জন্য বিশেষ নিয়ম (তা’লীল) প্রযোজ্য— সেই নিয়মগুলোর বিপুল সমাহার এই কিতাবে পাওয়া যাবে!
📌 এই কিতাবটি ছরফ শেখার জন্য একটি অপরিহার্য হাতিয়ার!
আলহামদুলিল্লাহ! কিতাবটি ছাত্র, শিক্ষক ও আরবি ভাষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কোনো প্রকার প্রচার-প্রসার ছাড়াই, শুধুমাত্র তার গুণগত মানের জন্য—
📌 এতিমধ্যে এর মুদ্রিত কপির সংখ্যা ৫,০০০-এরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে!
এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এই কিতাব! শিক্ষার্থীরা এর সহজ ভাষা, পরিষ্কার ব্যাখ্যা ও ব্যবহারিক উদাহরণগুলোর জন্য কিতাবটিকে ভালোবাসে।
কিছু অপ্রত্যাশিত মুদ্রণ প্রমাদ থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদি কোন পাঠক কিতাবে কোনো ভুল, টাইপো বা অস্পষ্টতা সনাক্ত করেন, তবে আমাদেরকে অবিলম্বে ইমেইল বা মেসেজ করে জানাবেন। আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করব এবং পরবর্তী সংস্করণে অবশ্যই তা সংশোধন করে দেব।
📩 আপনার মূল্যবান প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য অমূল্য!
জনপ্রিয় কিতাব ‘মুনশায়িব’ (المنشئب)-এর সাথে সাদৃশ্য রক্ষা করে আত্ তাসহীল ফী ছিয়াগিত তা’লীল কিতাবটির রূপান্তর পদ্ধতি ও বিন্যাস তৈরি করা হয়েছে। এতে করে মীযান (الميزان)-এর অসংখ্য বাহাস (بحور) বা মাত্রার রূপান্তর অনায়াসে শেখা যায় — ফলে পূর্বে যা বাইপাস করা হত, এখন তা সহজেই বোঝা যায়!
বন্ধু মহল, সুহৃদ পাঠক ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মূল্যবান পরামর্শে— বাদ পড়া সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বাহাসসমূহ কিতাবের শেষে একটি আলাদা অনুষঙ্গ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে! এর নাম দেওয়া হয়েছে—
(تكميلَةُ التَّسْهِيل)
🔹 এই অনুষঙ্গ তা’লীলের ছীগাহ্-এ দক্ষতা অর্জনের জন্য আরও শক্তিশালী হাতিয়ার সরবরাহ করবে।
🔹 কিতাবটিকে এনে দিয়েছে আরও একধাপ পূর্ণতা!
বেশি চাহিদা ও পাঠকদের অনুরোধে, এই সংস্করণে ৫ম পরিচ্ছেদ-কে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন এখানে পাবেন—
➜ নতুন ও প্রাসঙ্গিক উদাহরণ
➜ আরও সহজ ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা
➜ ব্যবহারিক অনুশীলনী (হাতেকলমে অনুশীলনের জন্য)
📌 মীযানের জটিল বাহাসগুলো এখন সহজেই শেখা যায়!
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-এর কাছে কায়মনোবাক্যে এই ফরিয়াদ জানাই:
“হে রব! আপনি যেন এই কিতাবটিকে তালিবুল ইলমদের (জ্ঞানার্জনকারীদের) ইলম অর্জনের পাথেয় বানান। এই কিতাবের মাধ্যমে জ্ঞানের খিদমত কবুল করুন এবং সংশ্লিষ্ট সকল—লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক ও ছাত্রদের ইখলাসে পরিপূর্ণ বরকত দান করুন। আমাদের নীতিকে শুধু ইলমের জন্য পবিত্র রাখুন এবং ইসলামের সেবায় এই জ্ঞান ব্যবহার করার তাওফিক দিন। আমীন!”